14 August 2014

জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছাবে আগামী মৌসুমেই

কৃষকের হাতে জিঙ্ক সমৃদ্ধ নতুন ধানের বীজ আগামী মৌসুমে ব্যাপক হারে পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি’র) বিজ্ঞানীরা। তবে এর আগে প্রদর্শনীর জন্য প্রথম অবস্থায় স্বল্পসংখ্যক কৃষকের মধ্যে এ বীজ পৌঁছে দেয়া হবে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত জিংক সমৃদ্ধ জাতসহ ধানের চারটি নতুন জাত নিয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় প্রতিষ্ঠানটির ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
জাত চারটি হলো বোরো মৌসুমের জাত ব্রি ধান ৫৯, ব্রি ধান ৬০, ব্রি ধান ৬১ এবং আমন মৌসুমের জাত ব্রি ধান ৬২। এর মধ্যে ব্রি ৬২ বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করলেও ফলন পাওয়া যাবে। ব্রি ৫৯, ব্রি ৬০ এবং ব্রি ৬১ একমাত্র বোরো মৌসুমের ফসল।

সম্মেলনে উদ্ভাবিত জাতের তুলনা করে বলা হয়, ব্রি ২৮ এবং ব্রি ২৯ সর্বোচ্চ ফলনশীল ধান। এর জীবনকাল ১৬০ থেকে ১৬৫ দিন। ফলন হেক্টর প্রতি আট টনেরও বেশি। এর থেকেও স্বল্প জীবনকালীন ধানের জাত ব্রি ৫৮। কিন্তু এর ফলন ব্রি ২৯ এর মত।
ব্রি ৫৯ নামে যে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে তার জীবনকাল ১৫৩ দিন এবং হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৭.১ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এর ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৫ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। গাছের উচ্চতার বিচারে ব্রি ২৮ থেকে একটু খাট এবং মজবুত থাকায় ব্রি ৫৯ ঢলে পড়ে না।
ব্রি ৬০ এর জীবনকাল ১৫০ দিন। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৭.৩ টন। এটিও ব্রি ৫৯ এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বহন করে।
ব্রি ধান ৪৭ একটি লবণ সহনশীল জাত। এটার পরিপক্ক ধান ঝড়ে পড়ার প্রবণতা রয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ব্রি ধান ২৯ এর সংকরায়নের মাধ্যমে ব্রি ৬১ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রাথমিক অঙ্গজ বৃদ্ধি অবস্থায় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ মিটার এবং রিপ্রডাক্টিভ স্টেজ পর্যন্ত গড়ে আট মিটার পরিমাণ লবনাক্ততা থাকলেও প্রতি হেক্টরে চার টন ফলন দিতে সক্ষম। এর ধান ঝড়ে পড়ে না এবং চাল হয় মাঝারি চিকন। লবনাক্ত প্রবণ এলাকায় চাষাবাদ করে বর্ধিত ধান উৎপাদন করা সম্ভব।
রতিটি মানুষের প্রতিদিন আড়াই মিলিগ্রাম জিঙ্কের প্রয়োজন হয়। সাধারণত ভাতের সঙ্গে জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া সম্ভব হয় না। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্বে এবারই প্রথম ব্রি’র বিজ্ঞানীরা জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধান ব্রি ৬২ উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রোটিনের বিচারেও এ জাত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ জাতে প্রতি কিলোগ্রামে জিঙ্কের পরিমাণ রয়েছে ১৯ মিলিগ্রাম এবং প্রোটিন রয়েছে শতকরা নয় ভাগ যা অন্যান্য উদ্ভাবিত জাতে থাকে সর্বোচ্চ সাত ভাগ। দেশে অন্য কোনো চালে এতো বেশি পরিমাণ জিংক নেই। ব্রি ৬২ জাতের জীবনকাল মাত্র ১০০ দিনের। এটি আমন মৌসুমে আবাদযোগ্য, এর পোটেনশিয়াল ফলন হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ টন। স্বল্প জীবনকালীন জাতের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ফলনদানকারী জাত।
ব্রি ধান ৬২ আগে পাকার কারণে এ ধান কাটার পর একই জমিতে আগাম আলু, সরিষা ও পিয়াজের মতো অনেক রবি শস্য চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারবেন।
এ ধান উদ্ভাবনে যারা কাজ করেছেন তারা হলেন ব্রি’র ব্রিডিং বিভাগের প্রধান ড. মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন ও ড. পার্থ সারথী বিশ্বাস।
সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. সাইদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বছরে আমনের দুটি মৌসুম রয়েছে। চলতি সময়ে আমনের মৌসুম চলছে। এবার কৃষকদের মধ্যে প্রদর্শনী হিসেবে বীজ সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী মৌসুমে প্রদর্শনী থেকে পাওয়া বীজ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবিত ব্রির অন্যান্য জাতগুলো কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।”